শনিবার, ১৬ মার্চ, ২০১৯

ভূতুড়ে : জাকির রুবেল

ভূত : স্বপ্ন নাকি বাস্তবতা বুঝতেছিনা.......... .
পাশেই মোবাইলটা চিৎকার করেই যাচ্ছে  বিকট অাওয়াজে। এরকম রিংটোনতো অামার মোবাইলে ছিলনা।  কয়টা বাজে  জানিনা। ফ্যান চলছে। টিভি চলছে। লাইট জালানো। চোখ কছলাতে কছলাতে মোবাইলটা ধরলাম। একটা নারী কন্ঠ। কেমন অাছেন রুবেল সাহেব? অমাকে রুবেল বলেতো কেও ডাকে না? ফোন কেটে দিয়ে নাম্বারটা চেক করলাম। কি অাশ্চার্য কোন নাম্বারই নাই কল লিস্টে।
ঘড়িতে ঠিক ২:৪৫ মি।

বাথরুমের লাইটটা হঠাৎ জ্বলে উঠলো। কে ওখানে? বাসায়তো অাজ অামি ছাড়া কেও নেই। পাশের রুমের অালোতে মনে হচ্ছে কে যেন হেটে যাচ্ছে। একটা ছায়ামূর্তি। গা টা কেমন ছমছম করে উঠলো। যদিও অামি ভূতে বিশ্বাস করি না। তবুও কলিজাটা মোছড় দিয়ে উঠলো।ধীর পায়ে পাশের রুমে গেলাম। খাটের দিকে তাকিয়েতো অামার চক্ষু ছড়কগাছ। কে যেন এ গরমেও কম্বল মুড়িয়ে শুয়ে অাছে। যদিও ১০/১৫ দিন অাগেই কম্বলগুলো প্যাকেট করে নিজ হাতে উপরে রাখলাম। সব কেমন গুলিয়ে যাচ্ছে কি করবো বুঝতেছিনা।

হঠাৎই কম্বলে জড়িয়ে থাকা মানুষটি জেগে উঠলো। কুৎসিৎ একটা মুখায়বব।লম্বা লম্বা দুটো দাঁত বের করে শান্তভাবে অামার দিকে তাকিয়ে অাছে। এগিয়ে অাসসছে হাত বাড়িয়ে অামার দিকে। হাতে ১২ টি অাঙ্গুল। অামি দিলাম দৌড়। দৌড়াচ্ছি অার দৌড়াচ্ছি। এই বুঝি ধরে ফেললো। পা অার চলছেনা। থেমে গেলাম। গাড়ে কারো শীতল হাতের স্পর্শ পেলাম।ভূতদের হাত নাকি শীতল হয়। ভাবছি এই বুঝি জীবন প্রদীপ নিভে এলো। পেচনে সজোরে অাঘাত করলাম। প্রচন্ড ব্যাথায় কঁকিয়ে উঠলাম। হাতের ছামড়া ছিড়ে গেছে। ঘুম ভেঙে গেল। দিখি হাত থেকে রক্ত ঝরছে। ঘুষিটা মনে হয় দেয়ালে লেগেছে। তাহলে কি এতক্ষন স্বপ্ন দেখছিলাম?

অাবারও মোবাইলটা ফোন বেজে উঠলো।স্বপ্নের ঘোর তখনো কাটেনি  দেখি Farjana Hosain Farjuর  ফোন। রিসিভ করতে বললো ওর ছোট অাংকেল জনাব( Rafiqul Islam)   ঢাকা থেকে ফিরছেন।অামার বাসায় বাকি রাতটুকু কাটাবেন।খুশি হলাম এটা জেনে।  রাত ৩:০০। কল রিসিভে অাবার অামার বরাবরই অালসেমি। ভাগ্যিস এতরাতে স্বপ্নটা অামায় জাগিয়ে দিল নচেৎ বড় লজ্জায় পড়ে যেতাম।

মঙ্গলবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯

ছোটদের বিজ্ঞান ও বিজ্ঞানী : টমাস অালভা এডিসন

ছোট্ট বন্ধুরা! কেমন আছো তোমরা? কি, মন খারাপ? দীর্ঘদিন তোমাদের প্রিয় পত্রিকার প্রিয় বিভাগ "বিজ্ঞান ও বিজ্ঞানী " দেখতে পাওনি বলে। আজ থেকে আবারো শুরু হবে নতুন উদ্যোমে। তোমরা কি থাকবে আমার সাথে? চলো তাহলে শুরু করা যাক -------------
তোমরা  হয়তো এমন একজনের নাম শুনে
থাকবো। যিনি পারিপার্শ্বিক অনেক কিছু নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও গবেষণা করতেন। একবার
তিনি মুরগির মতো ডিম ফুটিয়ে বাচ্চা বের করবার উদ্দেশ্যে ঘরের এক কোণে ডিম সাজিয়ে বসে পড়লেন। তিনি আর কেউ নন, তিনি হচ্ছেন বিখ্যাত বিজ্ঞানী টমাস আলভা এডিসন। এই বিজ্ঞানীকে নিয়ে তাঁর মৃত্যুর পর নিউইয়র্ক পত্রিকায় ছাপা হয়, ‘মানুষের ইতিহাসে এডিসনের মাথার দাম সবচেয়ে বেশি। কারণ এমন সৃজনী শক্তি অন্য কোনো মানুষের মাঝে দেখা যায় নি।

 

অন্যতম অবদানসমূহ :

১. ভোল্ট গণনা করার যন্ত্র আবিষ্কার

২. ডুপ্লেক্স টেলিগ্রাফ পদ্ধতির আবিষ্কার

৩. বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার ডাইনামো এবং জেনারেটর আবিষ্কার

৪. কিনেটোগ্রাফ’ গতিশীল ছবি তোলবার জন্য প্রথম ক্যামেরা আবিষ্কার।

টমাস আলভা এডিসনের জন্ম ১৮৪৭ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি কানাডার মিলানে। তাঁর পিতা ছিলেন
ওলন্দাজ বংশোদ্ভুত। এ সময় তাঁর পিতার আর্থিক সচ্ছলতা ছিল। ফলে এডিসনের ছেলেবেলার দিনগুলো ছিল আনন্দদায়ক। সাত বছর বয়সে এডিসনের পিতা মিশিগানের অন্তর্গত পোর্ট হারান নামে একটা শহরে এসে নতুন করে বসবাস শুরু করলেন। এডিসন স্কুলে ভর্তি হলেন। তিনি অসম্ভব মেধার অধিকারী ছিলেন। কিন্তু স্কুলের গন্ডিবাঁধা পড়াশুনা তাঁর নিকট একঘেঁয়েমি মনে হত। পড়াশুনায় কোনো মনোযোগ নেই, শিক্ষকদের অভিযোগ শুনে ক্ষুব্ধ হতেন। ফলে স্কুল ছাড়িয়ে আনলেন। এখানেই এডিসনের তিন মাসের স্কুল জীবনের সমাপ্তি ঘটল। আর কোনদিন স্কুলে যান নি এডিসন। এবার মায়ের নিকট তাঁর পড়াশুনা শুরু হল।

এডিসন ছোটবেলা থেকে পারিপার্শ্বিক
যা কিছু আছে, যা দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত হয়, পরীক্ষা-নিরীক্ষা করলেন এগুলো নিয়ে। বেশ মজার ঘটনা। একবার তিনি মুরগির মতো ডিম ফুটিয়ে বাচ্চা বের করতে পারেন কিনা তা দেখবার জন্য ঘরের এক কোণে ডিম সাজিয়ে বসে পড়লেন। এর কয়েক বছর পর তিনি বাড়িতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার জন্য একটা ছোট ল্যাবরেটরি তৈরি করলেন। কিছুদিন যেতেই তিনি হাতে-কলমে পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি
ও সরঞ্জাম কিনে ফেললেন। এ সময় বাবার আর্থিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় তিনি স্থির করলেন
কাজ করে অর্থ সংগ্রহ করবেন।

তেরো বছরের ছেলে কাজ করবে! তাঁর
বাবা-মা দু’জনে রীতিমত অবাক। এডিসনের
জেদ চাকরি করবে। অগত্যা আর কি করা, বাবা-মা দু’জনে রাজি হলেন। এডিসন অনেক খোঁজাখুঁজির পর খবরের কাগজ ফেরি করার কাজ পেলেন। আরো বেশকিছু আয় করার জন্য তিনি খবরের কাগজের সহিত চকলেট বাদামও রেখে দিতেন। এভাবে কয়েক মাসের মধ্যে বেশকিছু অর্থ সংগ্রহ হল।

এ সময় এডিসন জানতে পেলেন একটি
ছোট ছাপাখানা যন্ত্র কম দামে বিক্রি হবে। তিনি যে সামান্য অর্থ জমিয়েছিলেন তাই দিয়ে ছাপাখানার যন্ত্রপাতি কিনে ফেললেন। এবার নিজেই একটি পত্রিকা বের করলেন। একইসঙ্গে সংবাদ সংগ্রহ করা, সম্পাদনা করা, ছাপানো, বিক্রি করা, সমস্ত কাজ করতেন। অল্পদিনেই তাঁর কাগজের বিক্রির সংখ্যা বৃদ্ধি পেল। লাভ হল একশো ডলার। তখন তাঁর বয়স ছিল পনেরো।

একদিন এডিসন লক্ষ করলেন, একটি ছেলে রেল লাইনের উপর খেলা করছে। দূরে একটি ওয়াগন এগিয়ে আসছে। ছেলেটির সেদিকে নজর নেই। বিপদ আসন্ন বুঝতে পেরে হাতের কাগজ ফেলে দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়লেন লাইনের উপর। আর ছেলেটি কেউ নয়। স্টেশন মাস্টারের একমাত্র ছেলে। কৃতজ্ঞ স্টেশন মাস্টার যখন এডিসনকে পুরষ্কার দিতে চাইলেন, এডিসন সে সময় টেলিগ্রাফ শেখবার ইচ্ছা প্রকাশ করলেন। স্টেশন মাস্টার রাজি হলেন মহানন্দে। আর কয়েক মাসের মধ্যেই এডিসন টেলিগ্রাফি শেখা রপ্ত করে নিলেন। এর সঙ্গে সাংকেতিক লিপি ও তার অর্থ বুঝতে সক্ষম হলেন।

অত্যন্ত পরিশ্রমী ছিলেন এডিসন। একবার স্টাফোর্ড জংশনে রাত্রিবেলায় ট্রেন ছাড়ার সিগনাল দেওয়ার কাজ পেলেন। রাত জেগে কাজ করতে হত এবং দিনের বেলায় সামান্য কিছুক্ষণ ঘুমিয়ে নিয়ে নিজের গবেষণার
কাজ করতেন। এ সময় তিনি একটি ঘড়ি তৈরি করলেন যেটি আপনা থেকেই নির্দিষ্ট সময়ে সিগনাল দিত। এর পরে বোস্টন শহরে কাজ করার সময় দেখলেন, অফিস জুড়ে ভীষণ ইঁদুরের উৎপাত। তিনি হঠাৎ করে একটি যন্ত্র উদ্ভাবন করলেন যা সহজেই ইঁদুর ধ্বংস করতে সক্ষম।

 

তিনি ১৮৬৯ সালে বোস্টনে চাকরিরত অবস্থায়
একটি যন্ত্র আবিষ্কার করলেন যা দিয়ে ভোল্ট গণনা করা যায়। এই যন্ত্রের গুণাগুণ বিবেচনা
করে উদ্ভাবক হিসেবে তাঁকে পেটেন্ট দেওয়া হল। আর এই পেটেন্ট এডিসনের জীবনে
এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে। এরপর বোস্টন শহর ছেড়ে চলে এলেন নিউইয়র্কে। হাতে
মোটেও পয়সা নেই। খাওয়া হয় নি দু’দিন ধরে। এক টেলিগ্রাফ অপারেটরের সাথে পরিচয় ঘটল। সে এডিসনকে এক ডলার ধার দিয়ে গোল্ড ইনডিকেটর কোম্পানির ব্যাটারি ঘরে থাকার ব্যবস্থা করে দিলেন। সেখানে দু’দিন কেটে গেল। তৃতীয় দিন তিনি খেয়াল করলেন ট্রান্সমিটারটি খারাপ হয়ে গিয়েছে। ম্যানেজারের অনুমতিক্রমে তিনি অল্পক্ষণের মধ্যেই ট্রান্সমিটারটি মেরামত করে ফেললেন। এর ফলে
তিনি কারখানার ফোরম্যান হিসেবে চাকরি পেলেন। তাঁর মাইনে ছিল ৩০০ ডলার।কিছুদিনের
মধ্যেই তিনি নিজের যোগ্যতা বলে ম্যানেজার পদে উন্নীত হলেন।

এই অর্থ দিয়ে তিনি নিজের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি
কিনে গবেষণার কাজে লাগাতেন। গোল্ড ইনডিকেটর কোম্পানি টেলিগ্রাফের জন্য এক ধরনের যন্ত্র তৈরি করত যার ফিতের উপর সংবাদ লেখা হত। এ সময় এডিসনের মনে হল বর্তমান ব্যবস্থার চেয়ে আরো উন্নত ধরনের যন্ত্র তৈরি করা সম্ভব। এজন্যে প্রয়োজন নিরবচ্ছিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার। এ সময় চাকরিতে ইস্তফা দিলেন এডিসন। কয়েক মাস প্রচণ্ড পরিশ্রমের
পর উদ্ভাবন করলেন এক নতুন যন্ত্র। এটি আগের চেয়ে অনেক উন্নত এবং সেই সঙ্গে এর উৎপাদন ব্যয়ও কম। তিনি এ যন্ত্রটি নিয়ে গেলেন গোল্ড ইনডিকেটর কোম্পানীর মালিকের নিকট। এতে মালিক খুশি হলেন। এডিসনকে জিজ্ঞাসা করলেন, কত দামে সে যন্ত্রটি বিক্রি করবে? এডিসন " বললেন, যদি পাঁচ হাজার ডলার দাম বেশি হয়, আবার তিন হাজার ডলার খুব কম হয় তবে কোম্পানী স্থির করুক তারা কি দামে যন্ত্রটি কিনবে। কোম্পানীর মালিক এডিসনকে চল্লিশ হাজার দিয়ে বললেন, আশা করি আপনাকে আমরা সন্তুষ্ট করতে পেরেছি। এডিসন তো হতবাক!

 

এই প্রচুর অর্থ বিজ্ঞানী এডিসনের জীবনে এক অভাবনীয় পরিবর্তন এনে দিল। এতদিন
তিনি অন্যের অধীনস্থ হয়ে কাজ করতেন। সেখানে তাঁর ¯^vaxbZv ছিল না। এবার
কয়েক মাসের চেষ্টায় নিউজার্সিতে তৈরি হল তাঁর কারখানা। তিনি সেখানে দিবারাত্রি কাজ
করতেন। রাত্রে মাত্র কয়েক ঘণ্টা বিশ্রাম নিতেন। এ কারখানাটি ছিল প্রকৃতপক্ষে
একটি গবেষণাগার। কয়েক বছরের মধ্যেই এডিসন প্রায় একশোটির বেশি নতুন উদ্ভাবন করে তার পেটেন্ট নিলেন। এগুলি বিক্রি করে পেলেন প্রচুর অর্থ।

এডিসন এবার নিজের কারখানায় কাজ করতে করতে পুনরায় আকৃষ্ট হলেন টেলিগ্রাফির দিকে। অল্পদিনেই
তৈরি হল ডুপ্লেক্স টেলিগ্রাফ পদ্ধতি। এর সাহায্যে দুটি বার্তা একই সাথে একই তারের মধ্যে দিয়ে দুই
দিকে পাঠানো সম্ভব। এরপরে একই সময়ে একই তারের মধ্যে দিয়ে একাধিক বার্তা প্রেরণ
করতে সক্ষম হলেন। আর এই পদ্ধতির সাহায্যে টেলিগ্রাফ ব্যবস্থার যে শুধু অসাধারণ উন্নতি হল তাই নয়, বরং খরচও কয়েকগুণ হ্রাস পেল।

তিনি ১৮৭৬ সালে তাঁর নতুন কারখানা স্থাপন
করলেন মেনলো পার্কে। এখানে একদিকে তাঁর গবেষণাগার অন্যদিকে কারখানা। এই মেনলো
পার্কে বিজ্ঞানী এডিসনের প্রথম উল্লেখযোগ্য আবিষ্কার টেলিফোন ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ। আলেকজান্ডার
গ্রাহামবেল আবিষ্কার করেছিলেন টেলিফোন, কিন্তু ব্যবহারের ক্ষেত্রে বহুবিধ সমস্যা
দেখা গিয়েছিল। এডিসন কয়েক মাসের চেষ্টায় তৈরি করলেন কার্বন ট্রান্সমিটার। আর এর
সহায়তায় গ্রাহকদের প্রতিটি কথা স্পষ্ট এবং পরিষ্কারভাবে শোনা গেল। চতুর্দিকে
সুনাম ছড়িয়ে পড়ল এডিসনের।

এডিসন দীর্ঘদিন মানুষের শ্রবণ যন্ত্র নিয়ে
কাজ করেছিলেন। এবার তিনি স্থির করলেন ইলেকট্রিক কারেন্টকে কাজে লাগিয়ে আলো জ্বালাবেন। সে সময়
এক ধরনের বৈদ্যুতিক আলো ছিল কিন্তু তা ব্যবহারের উপযোগী ছিল না। প্রথমেই
তিনি এমন একটি ধাতুর সন্ধান করেছিলেন যার মধ্যে কারেন্ট প্রবাহিত করলে উজ্জ্বল আলো
বিকিরণ করে। তিনি বিভিন্ন রকমের ধাতু নিয়ে ১৬০০ রকমের পরীক্ষা করলেন। অবশেষে দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর
তৈরি করলেন কার্বন ফিলামেন্ট।

তিনি শুধু বাল্বের উপর পরীক্ষা-নিরীক্ষা
করছিলেন। এরপর প্রয়োজন দেখা দিল সমগ্র বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নতি সাধনে তৎপর হলেন। তিনি
তৈরি করলেন নতুন এক ধরনের ডাইনামো, বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার জেনারেটর থেকে শুরু করে ল্যাম্প
তৈরি করা প্রভৃতি। নিউইয়র্কে প্রথম বিদ্যুৎ সরবরাহ কেন্দ্র গড়ে উঠল যার অগ্রনায়ক
ছিলেন বিজ্ঞানী এডিসন।

এবার এডিসন তাঁর বিখ্যাত মেনলো পার্ক ছেড়ে ওয়েস্ট অরেঞ্জে চলে এলেন। ১৮৪৭
সালের ঘটনা। এসময় তিনি শব্দের গতির মতো কীভাবে ছবির গতি আনা যায় তাই নিয়ে শুরু করলেন ব্যাপক
গবেষণা। মাত্র দু’বছরের মধ্যে উদ্ভাবন করলেন ‘কিনেটোগ্রাফ’ যা গতিশীল ছবি তোলবার জন্য প্রথম ক্যামেরা। ১৯২২ সালে এডিসন আবিষ্কার করলেন কিনেটোফো যা সংযুক্ত করা সিনেমার ক্যামেরার সাথে। এরই ফলে তৈরি হল সবাক চিত্র।

এই পরিশ্রমী বিজ্ঞানী অবশেষে ১৯৩১ সালের ১৮ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করলেন। তাঁর মৃত্যুর পর নিউইয়র্ক পত্রিকায় ছাপা হয়েছিল, ‘মানুষের ইতিহাসে এডিসনের মাথার দাম সবচেয়ে বেশি। কারণ এমন সৃজনীশক্তি অন্য কোনো মানুষের মধ্যে দেখা যায় নি।

সোমবার, ৮ অক্টোবর, ২০১৮

শর্শদীর মোহাম্মদ অালীর প্রাচীন মসজিদ: তিন গম্বুজ মসজিদ।

মুঘল নায়েব, মোহাম্মদ আলী চৌধুরী ১৭৬২ সালে ফেনী অঞ্চলে নিয়োগপ্রপ্ত হন। তার সময়কালে তিনি এ এলাকায় অনেক স্থাপনা তৈরি করেন যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল ফেনীর এ মসজিদটি। ১৭৯০ সালে তিনি ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে তার এ অঞ্চলের জমিদারি হারান।

অবকাঠামো

তিন গম্বুজ বিশিষ্ঠ এ মসজিদটি শর্শদী মাদ্রাসার ভেতর অবস্থিত। মসজিদের শিলালিপি অনুসারে, এর নির্মাণকাল ১৬৯০ থেকে ১৬৯১ সাল। তবে শিলালিপি থেকে আর কোন বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায় না। বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মালীকানাধীন এ মসজিদটিতে বর্তমানে প্রাচীন দেয়ালের উপর নতুন করে রং করা হয়েছে।

মূল মসজিদের সামনে একটি লালচে রং করা প্রবেশপথ রয়েছে। প্রবেশ পথ এর ভেতরে রয়েছে সমতল খালি জায়গা এরপরই মূল মসজিদের স্থাপনাটি অবস্থিত। মূল গম্বুজের উপর কালো আকৃতির একটি লম্বা নকশাকৃত মিনারেরমত উঁচু অংশ রয়েছে। যার চারপাশে ইট বসিয়ে গোলাকৃতিতে সাজানো হয়েছে। এছাড়াও পূর্ব দিকের দেয়ালে একটি বড় প্রবেশপথ ও তার দুপাশে খিলানের মতন নকশাকরা স্থাপত্যশৈলী রয়েছে।

রবিবার, ৭ অক্টোবর, ২০১৮

একটি মৃত্যু সনদ : জাকির রুবেল

_____________একটি মৃত্যু সনদ______________

একটা মৃত্যু সনদ।যেন তেন সনদ নয় একেবারে বাংলাদেশের শীর্ষ স্থানীয় মেডিকেল কলেজের দেয়া মৃত্যু সনদ। সনদটা হাতে নিয়ে স্থির দাঁড়িয়ে রয়েছেন নিজাম সাহেব। দাঁড়িয়ে থাকা নয় ঢলে পড়ে যাবেন এমন অবস্থা। হাটতে পারছেন না। পা যেন অচল, অসাঢ়, নিষ্কৃয়। মনে হচ্ছে সামনে যেন কেয়ামতের অন্ধকার। নিকশ কালো অন্ধকার। মাথাটা ঘুরছে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মৃত্য রেজিস্টার রুম থেকে কোন মতে বের হয়ে সিড়ি বেয়ে নিচে নামলেন। অব্যবহৃত ঔষধগুলো ফেরত দিয়ে অাবারো নিউরো সার্জারী বিভাগের উদ্দেশ্য রওনা দিলেন তিনি। দীর্ঘ দশ দিনে হাসপাতালটা কেমন যেন পরিচিত হয়ে গেছে। মনে হয় অনেক দিনের পরিচয়। চেনা সব অলিগলি। বারান্দা ধরে এগিয়ে চলছেন। কানে বাজছে রোগীদের অাত্মচিৎকার। বাইরে রোগীর স্বজনদের উদ্বেগ উৎকন্ঠা।

হঠাৎ দাঁড়িয়ে গেলেন একটা ছোট্ট শিশুর হাসির শব্দ পেয়ে। একজন মা খেলছেন তার শিশু বাচ্ছাটার সাথে। বার বার অাদর করছেন। চুমু খাচ্ছেন বাচ্ছাটার কপালে, মুখে। বাচ্ছাটা হেসেই শেষ। বাচ্ছাটার দিয়ে অপলক তাকিয়ে আছেন নিজাম সাহেব। হঠাৎই বাচ্চাটার মা নিজাম সাহেবকে দেখে বাচ্চাটাকে অাঁচলে ঢেকে ফেললেন। দুফোটা অশ্রু গড়িয়ে পড়লো নিজাম সাহেবের। যদিও এতক্ষন কোন কান্না ছিলনা মুখে। বাচ্ছাটার কথা মনে হতেই হাউমাউ করে উচ্চস্বরে বাচ্চা ছেলেদের মত কান্না করতে শুরু করলেন। মাথায় হাত দিয়ে এবার হাসপাতালের বারান্দায় বসেই পড়লেন।

কতক্ষণ সময় পার হয়ে গেল ভুলেই গেলেন নিজাম সাহেব। হঠাৎ ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখলেন সকাল দশটা বেজে গেছে। উঠে দাঁড়ালেন। অনেকটা দৌড়ে গেলেন নিউরো সার্জারি বিভাগে ক্ষত বিক্ষত পড়ে থাকা নিজের স্ত্রীকে দেখতে। টানা সার্জারীর দকল এবং এ বিভাগ ও বিভাগে টেনে নিতে নিতে সে ক্লান্ত, ভীষন ক্লান্ত। ফারাবীকে খাওয়াতে খাওয়াতে কখন যে ঘুমিয়ে গেছে। যে এখনো জানেনা তার কলিজার টুকরো ফারবী অার নেই। এই অাব্দুল্লাহ অাল ফারাবী নাম সিলেকশন নিয়ে যে কত রাত, কত দিন, কত বই ঘাটাঘাটি, কতবার ইন্টারনেটে সার্চ দিয়ে খুজে বের করেছেন নিজাম সাহেব ও তার স্ত্রী মিলি। কত রাগ ছিল তার উপর কেন নাম সিলেক্ট করতে এত দেরি? কেন নামের কোন বই অানছেনা। এই নিয়েতো একদিন কথা বলাই বন্ধ করে দিয়েছিল তার সাথে।

কত স্বপ্ন, কত অাকাঙ্খা, কত অাবেগ,কত ভালোবাসা। কত রাত যে কেটে গেছে বাচ্চাদের পোশাক ও খেলনা খুজতে খুজতে অনলাইনে। সেগুলো কালেক্ট করে স্বামীকে মেসেঞ্জারে পাঠাতো অার বলতো "কোনটা সুন্দর, দেখোতো? এটার অর্ডার দাও ওটার অর্ডার দাও। অারো কত কি?
ফুটিয়ে পানি পান ছিল তার চরম অনভ্যাস কিন্তু ফারাবীর জন্য সেটাও অভ্যাসে পরিনত করেছিল সে। মশারি টাঙানো ছিল তার কাছে পৃথিবীর সবচাইতে কঠিন কর্ম কিন্তু নিজের অসুখ হলেতো ফারাবীরও অসুখ হবে তাই সে এটাও অায়ত্ব করে নিয়েছিল। নিজাম সাহেবের অাজ সবচাইতে বেশি মনে পড়ছে একটা ঝগড়া কথা।

ফারবী কোথায় জন্ম নিবে এ নিয়েতো নিজাম সাহেবের সাথে তার মায়ের কত ঝগড়া হয়েছিল। মা বলে গ্রামে হবে। নিজাম সাহেব বলেন শহরে সুযোগ সুবিধা ভালো, ভালো ডাক্তারও পাওয়া যাবে কাছাকাছি। একদিনতো নিজাম সাহেবেররনমার সাথে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় ও হয়ে গিয়েছিল। মা শহরের বাসায় অাসাই বন্ধ করে দিয়ে ছিলেন।
ফারাবীর খালাতো ভাই ফারাবীর জন্যতো অাগেই মার্কেটিং করে রেখেছিল। ফারাবীর খালা তার জন্য কাথা সেলাই করে রেখেছেন। ফারাবীর দাদাতো নাতী হবে বলে খুশিতে অাত্মহারা।অাগেই বলে রেখেছেন কত কেজি মিষ্টি খাওয়াবেন। বড় ছেলের বড় নাতি বলে কথা। ফারবীর মামাতো অাগেই বলে রেখেছেন ফারবীর জন্য কিছু যেন না কিনি, তিনি সবকিছু বিদেশ থেকে পাঠাবেন বাগীনার জন্য।

একে একে সব মনে পড়ে যাচ্ছে অাজ নিজাম সাহেবের। প্রথমে কাকে ফোন করে জানাবেন এমন সংবাদটা। এ সংবাদ যে কেও অাশা করেনি। ঘুর্নাক্ষরে কেওতো কল্পনাও করেনি এমনটা ঘটবে। দু একজনকে ফোন করতেই কান্নায় মোবাইল ভারী হওয়ার উপক্রম। খবর শুনে দাদা দাদীতো সাথে সাথেই বেহুশ। চারদিক থেকে কল অাসছে। কারো কলই অার রিসিভ করছেন না তিনি। সবার একই জিজ্ঞাসা?উত্তর জানা নেইই তার।

ফারাবীর অাকার সকল স্বাভাবিক বাচ্ছাদের থেকে একটু বড়ই ছিল। কেমন একটা অদ্ভুদ মায়া ছিল তার মুখে। সাধারন বাচ্ছারা অনেক দেরিতি হাসলেও সে কিন্তু ২য় দিনই সে হেসেছিল। বাবার হাতের অাঙুলটা মুষ্টি করে ধরে রেখেছিল চলে যাবার অাগের দিন। মাত্র অাট দিনের হায়াতে সে শত বছরের মায়া দিয়ে গিয়েছিল। হাসিটা ভীষন সু্ন্দর ছিল বিধায় হয়তো মহান রবের পচন্দ হয়েছিল। তাইতো তিনি জান্নাতের মেহমান করে ফারবীকে নিয়ে গেলেন।

এম্বুল্যান্সের দীর্ঘ যাত্রার সমময় মিলি প্রিয় সন্তানকে বুকে রেখে তখনো ঘুমোচ্ছে। ঘুম যেন মৃত্যু ঘুম। জাগ্রত থাকলেতো কতবার বেহুশ হতো তার ইয়ত্তা নেই। গাড়ী থেকে নেমেই নিজাম সাহেব বাড়া দেয়ার জন্য পকেটে হাত দিলেন। মানিব্যাগটা উদাও। দৌড়াদুড়ির কোন ফাঁকে যে পকেটমার তার তার কাজ করে গেছে খবর নেই। পকেটের সবকিছু নিয়ে গেলেও পড়ে রইলো মৃত্যু সনদটি। সেই সনদ যা এলোমেলো করে  সাগরে ভাসিয়ে দিয়েছে তাদের সকল অাশা ভরসাকে। বাড়ীতে লোকজনের প্রচুর ভীড়। কান্নার অাওয়াজ। ১২টায় জানাজা। নিজাম সাহেব মৃত্যু সনদটা হাতে নিয়ে  কপালে হাত দিয়ে ঘরের দরজার সামনে বসে গেলেন।তার স্বপ্নের ফারবীর জন্ম সনদ পাওয়ার অাগেই যে মৃত্যু সনদটা পেয়ে গিয়েছিলেন তিনি।

শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

সিনহা বাবুর বইয়ের অনুবাদ লিংক

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার "A Broken Dream”(ক্ষতিগ্রস্হ স্বপ্নের) বইয়ের পুরো বাংলা অনুবাদ

সবাই বইটি নিচের লিংক থেকে ডাউনলোড করে নিতে পারেন।

অনুবাদ সম্পাদনায়ঃ সালাউদ্দিন আইয়ুবী
সার্বিক সহযোগিতায় : রাজ্ হাসান

https://l.facebook.com/l.php?u=https%3A%2F%2Fcdn.fbsbx.com%2Fv%2Ft59.2708-21%2F41947768_255637018627718_1330690759334035456_n.pdf%2F%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B7%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%97%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%A5-%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%A8Surendra-Kumar-Sinha.pdf%3F_nc_cat%3D0%26oh%3De52ff144de3121b748aa92ba4e83661a%26oe%3D5BA8C5FF%26dl%3D1&h=AT30Gd2M9Inbioe6YmKLoM-QLHFvnly9h1o8woV3ARzbtCcWeiuuPOapxH5oyLK4Fd_edBxbCBhJud60LFDgp8TEb9hnH6ZYcr5LjbKzaapFoozD2lfG5yEVqWrC8cSX4RzuYs9kKZtM7TPkxOlb_IATNjw3MJjythVvPMD-_j5OhR7LyFM11cFGDn5GPbj9VDgiVy5sqFnnCUMG8v-0M_sQRvu-naqy4DHVjM4_TbuX6TwYdzYe43pogsw-UE5IlfgPM_lt88OsfLu-LYXGJ08extTubP3miEis6L4ljjhffw4iNhoQmmI5rx1GP6XGImEQj6XxopvL0sg-qMeelZAy53rreopv0XF8eoYsF8LvgUmyZ1hOSskFF0DmVCxHM9M7rzkJSwKmq59BXY-o0zs2Gg6slRsZ

মঙ্গলবার, ২৪ জুলাই, ২০১৮

রেল স্টেশন : ফারজানা হোসেন ফারজু

রেইল ষ্টেশন

ষ্টেশন এর প্রধান দরজা দিয়ে ঢুকতেই দেখি দুপাশে রেইল কর্মকর্তা কর্মচারী দের কক্ষ। দু পা এগিয়ে গেলাম। সারী সারী ব্যাঞ্চ বসানো। ব্যাঞ্চে বসে কেউ অপেক্ষা করছে ট্রেন আসার। চোখে অজানা সুন্দর স্বপ্ন।কেউ আপন জনের কাছে যাবে। কেউবা আপন জনকে ছেড়ে যাবে। তাদের নিরাপত্তার জন্য রয়েছে পুলিশ বাহিনী। কাধে বন্ধুক, পায়ে ব্যুট জুতো, গায়ে খাকি পোষাক,পোষাকে বুকের উপর দিয়ে তাদের নাম খোদাই করা ব্যাচ লাগানো। প্রশাসনিক ব্যাক্তি বলে কথা। তারা তো আবার জনগণের বন্ধুও বটে।তারা পায়চারী করছে ষ্টেশন এর দুপাশে। কয়েক গজ পর পর বাহারি খাবারের দোকান। দোকানিরা মোটামুটি ভালই বেচাকেনা করছে। রেইল লাইনের দুপাশে কিছু মানুষ শুয়ে বসে রয়েছে। পুরাতন বগি গুলাও পড়ে রয়েছে রেইল লাইনের পাশে পরিচর্যার অভাবে। সন্ধ্যার পরে নারীরাও শুয়ে পড়ে রেইল লাইনের পাশে। আমার হঠাৎ করে চোখ পড়ল একটা ছোটখাটো ঝগড়ার দিকে। ঝগড়া হচ্ছিল একজন৩৫- ৪০ বয়স এমন মহিলা এবং ১৬-২০ বছর বয়স এক ছেলের মধ্যে। মহিলার পাশে একটি ১৩-১৪ বছরের মেয়ে।দাঁড়িয়ে ঝগড়ার কথা গুলা শুনছিলাম।কথা গুলা ছিল এমন -"২০ টাকা দিব
                          -না যত বলছি তত
                     -কম হলে থাক
                      -আচ্ছা ৫০ ই দিব।"
কথা শুনে ভাবলাম মনে হয় কিছু কেনা বেচা করছে। ভাল করে লক্ষ করে দেখি দুজনের হাতেই কিছু নেই। আমি চিন্তায় পড়ে যায় কি বেচা কেনা হচ্ছে? পরক্ষনে দেখি বয়ষ্ক মহিলাটি শিশুপ্রায় মেয়েটিকে বলছে- এই যা। মেয়েটি মুচকি হেসে চলে গেল পুরাতন বগির ভিতরে। পেছন পেছন ছেলেটিও। আমি আবার হাটতে থাকি। দেখি কিছু মানুষ রান্না করা খাবার বিক্রি করছে। কেউ আবার পুরাতন কাপড় চোপড় ও বিক্রি করছে। দূরে ট্রেনের আলো দেখা যাচ্ছে। উচ্চ আওয়াজ দিয়ে আমার সামনে হাজীর হলো একটি ট্রেন। কিছুক্ষন থামলো। অনেক লোক নামলো কঠিন বাস্তবতার স্বীকার হয়ে।আবার অনেকেই উঠছে অজানা সুন্দর স্বপ্নের উদ্দেশ্যে। আমি কিছুদূর পর্যন্ত হেটে আবার ফিরে আসি। ও একটা কথা বলাই হয়নি। আমি একা ছিলাম না সেখানে ছিলাম আমরা।আসার পথে দেখি বগি থেকে এলোমেলো অবস্থায় নামছে সেই ছেলেটি। খানেক পর মেয়েটিও নামছে। আমি বিষ্মিত হলাম। ঠায় দাঁড়িয়ে রইলাম সেখানে। আমার জীবনসঙ্গী আমার কাধে হাত রেখে বলল- কি হলো দাঁড়িয়ে রইলে যে? ওর ডাকে আমার ঘোর কাটল। আমি ওর দিকে অবুজ দৃষ্টি তে তাকিয়ে বললাম-এ থেকে কি পরিত্রাণ নাই? আমরা কি কিছু করতে পারিনা? ও বলল- আমাদের একার পক্ষেই কি সম্ভব? আমাদের কথোপকথন এর মাঝখানে একজন পুলিশ বলল -আপনারা কি যাত্রি? আমরা বললাম না। পুলিশ বলল তাহলে বেশিক্ষন হাটবেন না। যাত্রী ছাড়া ঢুকা নিষেধ।  আমি পুলিশ  লোকটার কথা শুনে উচ্চস্বরে হেসে উঠলাম।

বৃক্ষ ও মানব : ফারজানা হোসেন ফারজু

বৃক্ষ ও মানব

প্রতিদিন খুব ভোরেই উঠে যান রহমান সাহেব। তাড়াহুড়ো করে নাস্তা খান তিনি।সখের টবে লাগানো গাছ টাতে পানি দিতে কখনো ভুল করেন না। কাধে ব্যাগ ঝুলিয়ে হো হো করে গাড়ি নিয়ে অফিস যান। বাসায় নতুন বৌ লিলি ৩ মাসের অন্তঃসত্ত্বা।  অফিস থেকে বারবার ফোন করে লিলির খোজ নেন।মাঝে মাঝে গাছটির কথাও জিজ্ঞাস করেন।" রোদ পড়েছে কিনা? টব টা কাত পড়ে গেল কি না?" লিলি প্রায়ই বিরক্ত হয়ে যায়। অফিস থেকে বাসায় এসেই শুরু করে জেরা। লিলি পরিমাণ মত পানি পান করল কিনা? ঔষধ খাচ্ছে তো? হেটেছে কিনা? রাতে শুতে গেলেই লিলির বকবক শুরু হয়। আমাদের বাবুটা কেমন হবে? দেখতে কার মত? তোমার নাকি আমার? কি নাম দেব তার? এটা কি ছেলে না মেয়ে? কদিন পর থেকে লিলির মাথায় নতুন ভুত চেপেছে। বাবুর নাম ঠিক করবে। দুজনে মিলে সুন্দর একটা নাম ঠিক করল। অবশেষে সেই কাঙ্ক্ষিত দিন টি এলো। লিলির কোল জুড়ে সুন্দর ফুটফুটে একটা ছেলে এলো। লিলি কে নিয়ে দৌড়াদৌড়ি তে ব্যাস্ত রহমান। এক সপ্তাহ তারা হাসপাতালে ছিল। এবার তাদের প্রথম কাজ বাবুর নাম রাখা। মা বাবার পছন্দের নাম টি রাখল। পরদিন রহমান ও লিলির ছেলেটি তাদের রেখে চলে গেল। ছেলের সবকাজ শেষ করে বাসায় ফিরল তারা। ঘর দোর ঘুছিয়ে বারান্দায় আসে লিলি। গাছ টা কেমন শুকিয়ে গেছে।  গাছে পানি দিল কিন্তু কোন পরিবর্তন দেখলোনা। এভাবে এক সপ্তাহ দিল ভাবলো অনেক দিনের পানির অভাবে শুকিয়ে গেছে। একদিন পাশের বাসার এক ভাবি এসে বলল -গাছ টা তো মরে গেছে। পানি দিলেও নাকি লাভ হবে না। বারান্দা পরিষ্কার করার জন্য গাছটা ফেলে দিল।