সোমবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৬

সিরিয়া থেকে বার্মা : আইলানদের একটাই দোষ ওরা মুসলীম

প্রিয় পাঠক, আপনাদের হয়তো মনে আছে, আইলান কুর্দির কথা। মধ্যপ্রাচ্যের বিরাজমান যুদ্ধে শরণার্থী হয়ে সাগর পাড়ে পড়ে থাকা ছোট্ট শিশু আইলানের নিথর দেহের ছবি বিশ্ব মানবতাকে ধিক্কার দিয়েছিল। বিশ্বগণমাধ্যমে ছবিটি প্রকাশের পর শোক, নিন্দায় সরব হয়ে উঠেছিল গোটা বিশ্ব।
আইলানের পুরো নাম আইলান কুর্দি। সিরিয়ার কুর্দি অধ্যুষিত কোবানি শহরে ছিল তাদের বাড়ি। সম্প্রতি সিরীয় শহরটি দখল করে নেয় ইসলামিক স্টেট (আইএস) জঙ্গিরা। আইএস-এর কবল থেকে বাঁচতে ইউরোপের কোনো দেশে যাওয়ার জন্য তিন বছরের শিশু সন্তান আয়লান, পাঁচ বছরের গালিফ ও স্ত্রী রেহানকে নিয়ে নৌকায় করে ইউরোপে পাড়ি জমিয়েছিলেন তার পিতা আব্দুল্লাহ। তুরস্কের সমুদ্র তীরের কাছাকাছি এসে ডুবে যায়  নৌকাটি। তারপর সব শেষ। আব্দুল্লাহ নিজে বাঁচলেও প্রাণ হারিয়েছে তার দুই শিশুপুত্র ও স্ত্রী। তবে ডুবে যাওয়া আইলান ও গালিপের দেহ ফেরত দিয়েছে সাগর। তুরস্কের বোদরাম সৈকতে ভেসে আসে আইলানের দেহ। লাল টি-শার্টি, নীল হাফ প্যান্ট আর জুতাজোড়া তখনও তার পায়ে। উল্টো হয়ে থাকা দেহটির ছবি প্রকাশিত হয় তুরস্কের গণমাধ্যমে। তোলপাড় শুরু হয় বিশ্বজুড়ে। আইলানের মরদেহের ছবি চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে বিশ্বমানবতার দুর্দশা।

এবার এমনই আরেক আইলানকে ফিরিয়ে দিয়েছে নাফ নদী। পলায়নপর রোহিঙ্গাদের নৌকার ওপর বার্মিজ সেনাদের গুলিতে নৌকা ডুবে যায় I জন্ম হয় আরেক মৃত আইলানের।
বাংলাদেশের টেকনাফে ভেসে এসেছে এক রোহিঙ্গা শিশুর নিথর দেহ। তবে পার্থক্য হলো আইলান কুর্দির পরনে সুন্দর পোশাক ছিল, পায়ে ছিল জুতোজোড়াও। কিন্তু এ হতভাগ্য রোহিঙ্গা শিশুর সেটাও ছিল না।
এক আইলান বিশ্ব বিবেককে এতোটাই নাড়া দিয়েছিল যে ইউরোপ তার সীমান্ত খুলে দিতে বাধ্য হয়েছিল। কিন্তু এবারের এই রোহিঙ্গা শিশুর নিথর দেহ কি পারবে রোহিঙ্গাদের জন্য বিশ্ব মানবতাবোধের গোড়াটায় অন্তত একটা চরম ঝাঁকুনি দিতে?
কিন্তু একটি সমস্যা তো আছেই। সবাই মানুষ। সবার রক্ত লাল। কিন্তু তথাকথিত মানবতাবাদীদের কাছে সবাই সমান নয়। রোহিঙ্গারা সাগরে ভাসলেও সেই ‘মানবতাবাদীদের’ অন্তর এতদিন স্পর্শ করেনি।

করবে কি করে ওদের যে কোন পরিচয় নেই।  মুসলিম কি এখন মানুষের মত পরিচয় দেয়ার মতো কোনো পরিচয়?

বাংদেশ নিজেও একসময় ভারতে সরনার্থী হিসেবে আশ্রয় নিয়েছিল। তৎকালীন ভারত যদি মুসলীম অমুসলীম জাত বেজাত বিবেচনা করতো তবে এই বাংলাও বিরান ভূমিতে পরিনত হতো। কোটি আইলান এভাবে মরে পচে যেতো।

কি বলবি আর?  পারতেছিনা। হাত কাঁপেছে। 

বিজয়ের ৪৬ বছর : প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি


আমাদের জাতীয় জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন স্বাধীনতা। একটি ভূখণ্ড, জাতীয় পতাকা এবং সার্বভৌমত্ব অনেক বড় নেয়ামত। ‘স্বাধীনতা’ নামক নেয়ামত থেকে যারা বঞ্চিত তারাই কেবল বুঝেন পরাধীনতার শৃঙ্খল কত বিষাদের। পৃথিবীর ইতিহাসে বিজয় ও বিজিতের ধারা চলমান। শাসন-শোষণের বিপরীতে অধিকার আদায়ের সংগ্রাম ও সাধনা চিরকাল অব্যাহত আছে। প্রত্যেক জাতিকেই স্বকীয়তা ও অস্তি¡ত্ব লাভের আগে পরনির্ভরশীলতার ধাপটুকু অতিক্রম করতে হয়। আর এর জন্য কোনো কোনো জাতিকে দিতে হয় চরম মাশুল। আমাদের এই দেশ ও জাতির অস্তিত্ব লাভের পেছনেও এ পর্বটি পার হয়ে আসতে হয়েছে। অনেক কিছু বিসর্জনের বিনিময়ে আমরা একটি স্বাধীন জাতির অস্তিত্ব পেয়েছি।
আমরা কী হারিয়ে কী পেয়েছি-সেই প্রশ্নটি এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দেখা দিয়েছে। স্বাধীনতার কতগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি রয়েছে। যেমন জাতীয়তাবোধ, দেশাত্মবোধ, কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার সামর্থ্য। কোনো জনগোষ্ঠী নিজেকে স্বাধীন জাতি হিসেবে তখনই ভাবতে পারে যখন তার মধ্যে জাতীয় চেতনাবোধ, ঐক্য ও সংহতি, আত্মনির্ভশীলতা, আত্মবিশ্বাস এসব মৌল উপাদান মোটাদাগে থাকে। দেশের নাগরিক হিসেবে প্রতিটি সদস্যের ওপর স্বাধীনতা সুরক্ষার পবিত্র দায়িত্ব বর্তায়। রাষ্ট্রের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির জন্য যেমন একজন নাগরিকের আন্তরিক প্রচেষ্টা থাকবে, তেমনি রাষ্ট্রের ইমেজ যেন কোনোভাবেই ক্ষুন্ন না হয় সেদিকেও থাকবে তার সতর্ক দৃষ্টি। দেশপ্রেম ও জাতীয়তাবোধ থাকলেই কেবল একজন নাগরিক প্রকৃত অর্থে নাগরিকের মর্যাদা লাভ করতে পারে।
আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি ৪৫ বছর হয়ে গেল। আমাদের দেশটি আজ ৪৫বছরে পা রাখছে। জাতীয়ভাবে যৌবনের ধাপ পেরিয়ে পৌঢ়ত্বের দ্বারপ্রান্তে আমরা। কিন্তু এই দীর্ঘ সময়ে আমাদের প্রত্যাশার দিগন্ত যতদূর বিস্তৃত ছিল সে তুলনায় প্রাপ্তির খতিয়ান কি সন্তোষজনক! একসাগর রক্তের বিনিময়ে স্বাধীনতা লাভের পর আমাদের স্বপ্ন ছিল বিশাল, প্রত্যাশা ছিল দিগন্তপ্রসারী। স্বাধীন দেশে স্বাধীনভাবে মনের মতো করে সবকিছু গড়বো, দেশকে সাজাবো অপরূপ সাজে, আমার মাতৃভূমি সবুজ শ্যামল এই বাংলা হয়ে উঠবে একটি স্বপ্নপুরী, জাতি হিসেবে আমরা আসীন হবো শ্রেষ্ঠত্বের আসনে-এসব নানা সুখ-ভাবনায় আমরা ছিলাম বিভোর। স্বপ্নের ঘোরে হারানো বেদনাকে আমরা ভুলে গিয়েছিলাম অল্প দিনেই। সম্ভাবনার হাতছানি আমাদেরকে অতীতের দিকে ফিরে তাকানোর সুযোগই দেয়নি। কিন্তু আমাদের এই স্বপ্নের ঘোর কেটে যেতে বেশিদিন লাগেনি। সব স্বপ্ন হয়ে যায় ধূসর। যে প্রত্যাশা নিয়ে জাতি ত্যাগের পরাকাষ্ঠা দেখিয়েছিল সে প্রত্যাশার কিছুই পূরণ হয়নি। যে বাংলাদেশের স্বপ্ন আমরা দেখেছিলাম তার কিঞ্চিৎও বাস্তবে পাইনি। স্বাধীনতার লাভের কিছুদিনের মধ্যেই এক চরম অরাজকতা সৃষ্টি হয়। চারটি বিজয় দিবস পালন করতে না করতেই দুর্ভাগ্যজনক ট্রাজেডি, ষড়যন্ত্র, ক্যু-পাল্টা ক্যু পরিস্থিতিকে বিষিয়ে তোলে। অস্থিরতা ও হতাশায় ছেয়ে যায় পুরো জাতি।
আমাদের এই স্বপ্নভঙ্গের কারণ ছিল অনেক। তবে সবচেয়ে বড় কারণ ছিল নেতৃত্বের ব্যর্থতা। যারা সামনে থেকে, নেতৃত্বের আসনে বসে আমাদেরকে বিজয়ের মুখ দেখিয়েছিল তারাই আমাদের স্বপ্নভঙ্গের প্রধান কারণ। তাদের বিজয়ের পূর্বের ও পরের আচরণের মধ্যে তফাৎ ছিল বিস্তর। বিজয়ের পূর্বে যারা জনগণের অবিসংবাদিত নেতা ছিলেন, বিজয়ের পর তারাই জনধিকৃত হলেন। ক্ষমতার মোহ তাদেরকে উম্মাদ করে তুলল। ‘এসো ভাই লুটেপুটে খাই’ এই নীতিই তাদের কাছে প্রাধান্য পেল। তাদের চারপাশে জড়ো হয়ে থাকা চাটুকারেরা দেশের সম্পদের ভাগ-বাটোয়ারায় মেতে উঠল। যুদ্ধবিধ্বস্ত এই দেশটাকে পুনর্গঠনের পরিবর্তে নিয়ে গেল চরম বিপর্যয়ের মুখে। ফলে লাখো শহীদের প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত এদেশ বিশ্বের দরবারে খেতাব পেল ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ হিসেবে।
সে সময় ক্ষমতা ও লুটেপুটে খাওয়ার যে রাজনীতির সূচনা হয়েছিল তা দিন দিন বেড়েই চলছে। ক্ষমতার পালাবদল হয়েছে অনেকবার। শাসননীতিরও পরিবর্তন হয়েছে। কিন্তু পরিবর্তন হয়নি জনগণের ভাগ্যের। পূরণ হয়নি তাদের প্রত্যাশা। বাস্তবে রূপ লাভ করেনি তাদের স্বপ্ন। ইতোমধ্যে আমরা পেরিয়ে এসেছি বিজয়ের ৪৫টি বছর। এখনও এদেশের স্বাধীনতা-স্বার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে। সীমান্তে লাশ পড়ে পাইকারি হারে। আমাদের আভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলায় বিশ্ব মোড়লেরা। প্রতিবেশী দাদাদের ইশারায় নিজেদের স্বার্থ বিসর্জন দিতেও কুণ্ঠাবোধ করি না। সাম্রাজ্যবাদী গোষ্ঠীর লোলুপ দৃষ্টি এদেশের ওপর নিবদ্ধ। আমাদের সামাজিক ব্যবস্থা অন্তহীন সমস্যায় জর্জরিত। দারিদ্রের যাঁতাকলে পিষ্ঠ হচ্ছে অধিকাংশ মানুষ। না খেয়ে মারা যাওয়ার ঘটনা ঘটছে অহরহ। ন্যূনতম চিকিৎসার অভাবে প্রতিবছর মারা যাচ্ছে অসংখ্য লোক। পুষ্টিহীনতায় ভুগছে এদেশের সিংহভাগ শিশু। শুধু রাজধানীতেই ছিন্নমূল মানুষের সংখ্যা প্রায় ২৮ লাখ। মানুষের মৌলিক অধিকার খাদ্য, শিক্ষা, চিকি ৎসা, বাসস্থান ইত্যাদি আজও নিশ্চিত হয়নি। রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা আমাদের জীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলছে। ক্ষমতায় থাকা আর যাওয়ার নোংরা ও হিংস্র প্রতিযোগিতায় এ জাতির জীবন আজ ওষ্ঠাগত। সন্ত্রাসের কাছে আমরা সবাই জিম্মি। দুর্নীতিতে ইতোমধ্যে আমরা বেশ কয়েকবার হ্যাট্রিক করেছি। প্রায় ৯০ ভাগ মুসলমানের এই দেশে এখনও বিতর্ক হয় রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম থাকবে কিনা। ইসলামকে কষে গালি দিলেও এর তেমন কোনো শাস্তির বিধান নেই এদেশে। ধর্ম-কর্ম পালনেও আজ নানাভাবে বাধাগ্রস্ত হতে হচ্ছে। মানুষের মৌলিক অধিকারই এখনও এদেশে পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত হয়নি। যারা রক্ষক তারাই ভক্ষকের ভূমিকা পালন করছে। তথাকথিত রাজনীতিবিদরা নিজেদেরকে দেশপ্রেমিক দাবি করলেও তাদের অনেকের কা-কারখানা জাতিকে লজ্জায় নুইয়ে দেয়।
বিজয়ের চার দশক পরও যে এসব দেখতে হবে তা আমরা আগে ভাবিনি। বিজয়ের স্বপ্ন এভাবে ধূলিস্মাত হবে জানলে চড়ামূল্যের এই বিজয় আমরা আনতাম কিনা তা বিবেচনা করা যেত। যাঁরা রক্ত দিয়ে, নিজের অমূল্য জীবন দিয়ে আমাদেরকে এ বিজয় এনে দিয়েছেন তাদের কাছে আমরা লজ্জিত ও ক্ষমাপ্রার্থী। ৪৫ বছর সময় কম নয়, স্বপ্নীল দেশ গড়ে তোলার জন্য এতটুকু সময়ই যথেষ্ট ছিল। আমাদের পরে বিজয় অর্জন করে অনেক দেশ চলে গেছে আমাদের চেয়ে বহুদূরে। এই সুদীর্ঘ সময়েও না পারা আমাদের চরম ব্যর্থতা। জাতি হিসেবে এটা আমাদের দীনতার প্রমাণ বহন করে।
আমাদের জাতীয় জীবনে অনেক ক্ষেত্রেই আমরা এগিয়েছি। কিন্তু আমাদের এগিয়ে যাওয়ার গতিটা আশানুরূপ নয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এগুলেও অনেক ক্ষেত্রে আমরা পিছিয়ে পড়েছি। একটি জাতির টিকে থাকার যে নৈতিক ভিত্তি আদর্শ ও নৈতিকতা তাতে চরম ধস নেমেছে। আমাদের রাষ্ট্রীয় জীবনে স্খলনের মাত্রা যেভাবে দিন দিন বেড়ে চলেছে তাতে কোনো রকম দাঁড়িয়ে থাকা নৈতিকতার স্তম্ভটিও ধসে পড়বে। ৪৫ বছর আগে আমরা জাতীয়ভাবে যতটা নৈতিকতার বলে বলীয়ান ছিলাম তা কিন্তু এখন নেই। সেই সময়ের মানুষদের মধ্যে অন্যায় ও পশুপ্রবৃত্তির এতটুকু উপস্থিতি ছিল না যা এখন আছে। আত্মপ্রতিষ্ঠা ও লোভের লাগামহীন ঘোড়া আমাদের কোন পরিণতির দিকে নিয়ে যাচ্ছে তা কেউ বলতে পারবে না। বাহ্যিক সূচকগুলোতে আমরা যতই এগিয়ে যাই নৈতিকতার ভিতটি নড়বড়ে হয়ে গেলে এ জাতির পতন অনিবার্য। এজন্য বাহ্যিক উন্নতির পাশাপাশি নৈতিক উন্নতির বিষয়েও ভাবতে হবে সবাইকে।

শনিবার, ২৬ নভেম্বর, ২০১৬

অগ্রযাত্রার সংবিধান (zaker rubel)

              বিছিমিল্লাহীর রাহমানীর রাহীম

♦নাম : এই সংস্থার নাম হবে " অগ্রযাত্রা"

♦পরিচিতি :অগ্রাযাত্রা,  মেহরুন্নেছার মাঝে একটি সমাজ কল্যাণ ও সেবামুলক অরাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান।
মননশীল,  সৃজনশীল ওও সমাজ সেবক মানুষের আশা আকাংখার প্রতীক।
মেহেরুন্নেছা বাংলাদেশের নোয়াখালী জেলার কোম্পানিগঞ্জ থানার পূর্বে ছোট ফেনী নদীর তীরে অবস্থিত, এক মমতাময়ী মায়েের নাম। এই নামে একটি স্কুল প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এর মেহেরুন্নেছা নামের গোড়ড়াপত্তন।  এটি মধ্যম উন্নত এলাকা।  শিক্ষার হার প্রায় ৮০ %। অনেক জ্ঞানী গুনী লোক মেহেরুন্নেছার সুনাম ছড়িয়েছে দেশে ও বিদেশে।
মেহেরুন্নেছা প্রায় ৭০% প্রবাসী। তারা পৃথিবী বহু দেশে কাজ করে মেহেরুন্নেছা ও দেশের উন্নয়নে ভুমিকা রাখছে। আছে ১০% পেশাজীবী। তারাও এলাকার উন্নয়ন ও দেশ গড়ায় ভুমিকা রাখছে।
১০% আছে শ্রমিক। তারা তাদের কর্ম দিয়ে কোন মতে পরিবার নিয়ে খেয়ে পড়ে ভালোই আছে।
আর ১০ % আছে হতদরিদ্র।  তারা কোন মতে দিন অতিবাহিত করছে।  মানুষের সাহায্য সহায়তায় খেয়ে না খেয়ে দিন কাটাচ্ছে।  অনেকে তাদের সাহায্য সহায়তা করতেছে ব্যক্তিগতভাবে। এই সাহায্য  তাদের তেমন কাজে আসছে না।  তারা দারিদ্রতা থেকে মুক্তি পাছে না।যার কারননে তাদের ছেলে মেয়েরা লেখাপড়া করতে না পেরে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।  একশ্রেনীর সার্থান্বেষী  মহল তাদের অবৈধ ব্যবসা ও ক্ষমতার কাজে এই গবির মানুষ গুলো কে ব্যবহার করে তাদের স্বার্থ হাসিল করছে।  যার ফলে আজ মেহেরুন্নেছায় মারামারি, হানা-হানি লেগেই আছে।  সমাজে মদ, গাঁজা, ইয়াবা, যেনা ভ্যাবিচার বেড়েই চলছে। এর মূল সমস্যা সুশিক্ষার অভাব,  দারিদ্রতা,  ও ন্যায়বিচার না থাকা।
আর একা কারো পক্ষে এই দারিদ্রতা দূর করা সম্ভব না,দরকার সম্মমিলিত সাহায্য সহয়তা। এই অসহায় মানুষদের মুখে এক চিলতে হাসি ফোটানোর জন্যই অগ্রযাত্রা নামক এই সংগগঠনের যাত্রা।

♦ধরন : অলাভজনক,অরাজনৈতিক,সমাজ কল্যান মূলক সংস্থা।

♦কর্ম পরিধি : সেবার কোন পরিধি থাকেনা তবুও  প্রাথমিকভাবে মেহেরুন্নেছা এলাকাই হবে এর পরিধি। পর্যায়ক্রমে এর পরিধি বাড়ানো হবে।

♦কার্যালয় :  আপাতত whatsap ই এই সংস্থার কার্যালয় থাকবে।

♦লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য :
================
"তোমরাই সর্বোত্তম জাতি, মানবতার কল্যানের জন্য তোমাদের সৃষ্টি করা হয়েছে "- আল কুরআন। প্রবিত্র কুরআনের এই ঘোষনার আলোকেই দুস্ত ও আসহায় মানুষের কল্যানে কাজ করাই এই সংস্থার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।

♦কর্মসূচী :
=========

১.সমাজ কল্যান
২.ছাত্রকল্যান
৩.সাংস্কৃতি বিষয়ক
৪.ক্রীড়া বিষয়ক
৫.যাকত বিভাগ
৬.
**বিস্তারিত আরো আসতে পারে সবার পরামর্শে।

♦ দরিদ্রদের সহযোগীতার ক্ষেত্রে অবশ্যই নির্দলীয় মনেভব পোষন করা হবে। তবে দ্বীনি ভাইদের অগ্রাধিকার দেয়া হবে।

♦সদস্য হওয়ার নিয়ম:
================
সংস্থার কার্যকরি পরিষদের অনুমুতিক্রমে যে কেও সমাজকল্যানের মানসিকতা থাকলে এ সংস্থার সদস্য হতে পারবেন। আপাতত মেহেরুন্নেছার বাসিন্দা হতে হবে।

সদস্য বৃদ্ধির জন্য সকল সদস্য সদা সক্রিয় থাকবে।

♦পরিচালনা পদ্ধতি :
===============
১||.একজন সভাপতি, একজন সেক্রেটারী, ১০ সদস্যের একটি কার্যকরী পরিষদ এবং একটি উপদেষ্টা পরিষদ নিয়ে এ সংস্থার পরিচালনা পর্ষদ গঠিত হবে।

২|| সদস্যেদের ভোটে প্রতি এক বছরের জন্য সভাপতি ও সেক্রেটারি নির্বাচিত হবেন।।

৩|| সভাপতি ও সেক্রেটারি কার্যকরি পরিষদ মনোনীত করবেন।

৪|| এ সংস্থার কিছু বিভাগীয় সেক্রেটারি থাকবে যেমন
            ১.ছাত্র কল্যান বিভাগীয়
             ২. সমাজ কল্যান বিভাগীয়
             ৩. কোষাধ্যক্ষ
            ৪.ক্রিড়া সম্পাদক
            ৫. সাংস্কৃতি সম্পাদক
এসব বিভাগের একজন করে সহকরী ও থাকতে পারে।

♦আয়ের উৎস :::
==============

১.সদস্যদের দান
২.যাকাত
৩.ভিবিন্ন উদ্যোগ উপলক্ষে বিশেষ কালেকশন।

♣ এই সংস্থার নিজস্ব একটি কল্যান ফান্ড থাকবে। যার হিসাব সভাপতি, সেক্রেটারী ও কোষাধ্যক্ষ সাহেব প্রতিমাসের শেষে হিসেব করে সংক্ষিপ্ত আয় ব্যায়ের হিসাব কার্যকরি পরিষদ ও উপদেষ্টা পরিষদে পেশ করবেন।
♣কোষাধ্যক্ষ সংস্থার সকল আর্থিক হিসাব নিকাশ সুচারুভাবে দেখাশুনা ও নির্দিষ্ট বইয়ে লিপিবদ্ধ করে রাখবেন।
♣ সকল প্রকার আয় কোষাধ্যক্ষের হিসাবে প্রথমে যোগ হবে।

♦ ব্যায়ের খাত :
===========

সংস্থার সংবিধান নির্ধারিত খাত ও কার্যকরি পরিষদ কর্তৃক অুমোধিত খাতেই কেবল সংস্থার অর্থ ব্যয় হবে।
ব্যায়ের ক্ষেত্রে কার্যকরি পরিষদের সিদ্ধান্তই চুড়ান্ত বলে গন্য হবে।
১. দরিদ্র মেধাবী ছাত্র/ছাত্রীদের পড়াশোনার ব্যায়বার বহন
২.আর্থি অসচ্ছল ও দুস্ত ব্যক্তি ও পরিবারকে সাবলম্বি করার চেষ্টা
৩. কন্যা দায়গ্রস্ত পরিবারকে অার্থিক সহযোগীতা
৪.প্রতিবন্ধীদের সহায়তা
৫.অসহায় পরিবারকে বিভিন্ন মৌসুমে সহায়তা প্রদান ( শীতবস্ত্র, ইফতার, ঈদ উপহার, ইত্যাদি)
৬.বিধবা ও এতিমদের সাধ্যমত সহযোগীতা করার চেষ্টা করা হবে

♣♣ তবে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সহযোগীতার পরিবর্তে বড় ধরনের সহযোগীতা করে দারিদ্র দূরীকরনই প্রধান লক্ষ্য থাকবে)

♥♥♥♥শৃঙ্খলা ♠♠♠
===================
১ : যেহেতু এটি একটি সমাজ কল্যানমূলক অলাভজনক সামাজিক প্রতিষ্ঠান তাই যে কেউ এর সদস্য হতে পারবে কিংবা এর সদস্য পদ হতে অব্যাহতি চাইতে বা নিতে পারবেন।

২. কার্যকরি পরিষদ বা উপদেষ্টা পরিষদ বা ব্যক্তিগতভাবে এই দুই পরিষদের কেও এই সংস্থার আর্থিক কোন কেলেংকারির সাথে জড়িত থাকা প্রমানীত হলে তিনি এই সংস্থার দায়িত্বসহ সদস্য পদও হারবেন।

♦♦♦♦♦♦♦বিশেষ দ্রষ্টব্য ♦♦♦♦♦
এটি একটি সুপরিবর্তনীয় সংবিধান। সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে এর যেকোন ধারা বা উপধারা বা যে কোন অংশ পরিবর্তন ও সংশোধন করা যাবে।

♦প্রথম কার্যকরি পরিষদ ২০১৬ _২০১৭

সভাপতি : নুর আলম মামুন
সহ সভাপতি :গোলাম মাওলা
সেক্রেটারি :আবুল কাসেম হেলাল
সহসেক্রেটারী :আমির হোসেন সাইফুল
কোষাধ্যক্ষ :আবদুর রহমান রানা
সহ :আব্দুল করিম
ছাত্রকল্যাণ বিভাগীয় প্রধান : আতিকুর রহমান.
সহ:নেজাম উদ্দিন
সহ : ভাবলু
সহ : সজিব
সমাজকল্যাণ:
সাইফুল ইসলাম ( মৌলভী বাড়ি)
সহ : মাসুদ রানা
সহ : বোরহান.
আই এচ রিয়াদ
সংস্কৃতিক সম্পাদক : মহি উদ্দিন. সহ.আবদুল মান্নান সেলিম.
সহ.আবু নাছের.
ক্রীড়া বিভাগ:
মাহফুজ আলম স্বপন
আল আমিন
সাবিদ খান জামাল

♦প্রথম উপদেষ্টা পরিষদ ২০১৬-২০১৭

১.কাজী হানিফ আনসারী ভাই.
২.মাহবুবুর রহমান জিয়া. ভাই
৩.নাজমুল ভাই ( ডাঃ মোয়াজ্জেম এর বাগীনা.)
৪.আবদুল মজিদ ভাই
৫.শামসুদ্দিন ভাই
৬.মিজানুর রহমান ভাই
৭.মাওলানা ইউসুফ ভাই
৮.ফাহিম ভাই
৯.জাকের ভাই
১০.শহীদুল ইসলাম জসিম ভাই
১১.তৌহিদ ভাই
১২.আবদুল হক ভাই.
১৩.শহীদুল ইসলাম শহীদ ভাই

পরিশিষ্ট
                 লেখক : জাকির হোসেন
                  ০১৮১৫১৮০১৬৩

মঙ্গলবার, ১৫ নভেম্বর, ২০১৬

d ব্লক মৌলসমুহোর রসায়ন


যে সকল মৌলের d অরবিটালে ক্রমান্বয়ে ইলেক্ট্রন প্রবেশ করতে থাকে, তাদেরকে d–ব্লক মৌল বলে।
অবস্থান্তর মৌলের d–অরবিটাল ইলেক্ট্রন দ্বারা আংশিক পূর্ণ থাকে।

অবস্থান্তর মৌলসমূহের নিম্নোক্ত বৈশিষ্ট্য থাকে-
পরিবর্তনশীল জারণ অবস্থা
প্রভাবকরূপে ক্রিয়া
জটিল আয়ণ গঠন
বর্ণযুক্ত আয়ন সৃষ্টি
প্যারা চুম্বকীয় ধর্ম

d-ব্লক মৌলের শ্রেণীবিভাগ :

3d-ব্লক মৌল বা ১ম অবস্থান্তর সিরিজ :
Sc(21) থেকে Zn(30)

4d-ব্লক মৌল বা ২য় অবস্থান্তর সিরিজ :
Y(39) থেকে Cd(48)

5d-ব্লক মৌল বা ৩য় অবস্থান্তর সিরিজ :
La(57) এবং Hf(72) থেকে Hg(80)

6d-ব্লক মৌল বা ৪র্থ অবস্থান্তর সিরিজ :
Ac(89) এবং Rf(104) থেকে Mt(109)

১ম সিরিজের d–ব্লক মৌলগুলোর ইলেক্ট্রন বিন্যাস :
Sc(21)⟶1s22s22p63s23p64s23d1
Ti(22) ⟶1s22s22p63s23p64s23d2
V(23) ⟶1s22s22p63s23p64s23d3
Cr(24) ⟶1s22s22p63s23p64s13d5
Mn(25) ⟶1s22s22p63s23p64s23d5
Fe(26) ⟶1s22s22p63s23p64s23d6
Co(27) ⟶1s22s22p63s23p64s23d7
Ni(28) ⟶1s22s22p63s23p64s23d8
Cu(29) ⟶1s22s22p63s23p64s13d10
Zn(30) ⟶1s22s22p63s23p64s23d10

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য :
মহাশূণ্য ক্যাপসুল টাইটেনিয়াম ধাতু দ্বারা তৈরি করা হয়
লিগ্যান্ড হল নিঃসঙ্গ ইলেক্ট্রন যুগলধারী আয়ন বা যৌগ অণু
সাধারণ লিগ্যান্ড হল- :NH3, :OH2, :CL- প্রভৃতি
ফেরোক্রোম ইস্পাত শিল্পে বিভিন্ন শ্রেণীর মরিচাহীন ইস্পাত প্রস্তুতিতে ব্যবহৃত হয়।
ক্রোমিয়ামের সবচেয়ে সুস্থিত জারণ অবস্থা হল Cr(+3)
রং শিল্পে ও ক্রোম ট্যানিং এর কাজে ডাইক্রোমেট ব্যবহৃত হয়
ভূত্বকের প্রায় 4.15% হল লৌহের যৌগ
জিংক ধাতুকে প্রধানত ইস্পাতের গ্যালভানাইজিং করতে ব্যবহার করা হয়
ম্যাঙ্গানিজের (+2) জারণ অবস্থা অত্যন্ত স্থায়ী অবস্থা
নিকেল ম্যাটে Ni থাকে 55%
স্কেন্ডিয়ামকে অবস্থান্তর মৌল বলা যায় না
আয়রন, কোবাল্ট ও নিকেল হল ফেরোম্যাগনেটিক
ম্যাগনেটাইট এর সংকেত- Fe3O4
মরিচার সংকেত- 2Fe2O3.3H2O
ব্লিস্টার কপারে কপার থাকে
ভস্মীকৃত লৌহ আকরিক, কোক কার্বন ও চুনাপাথরকে যথাক্রমে 8:4:1 অনুপাতে মিশ্রিত করে মিশ্রণটিকে বাত্যাচুল্লীতে যোগ করা হয়
ZnO একটি উভধর্মী অক্সাইড
ZnCl2 এর জলীয় দ্রবণে অম্লীয়
জিংক ও ZnO এর মিশ্রণকে জিংক ডাস্ট বলে
স্পেল্টারে জিংক থাকে 97-98%
সোডিয়াম জিংকেট- Na2ZnO2
ZnO কে ফিলোসোফার উল বলে
এর ৫টি জারণ মান আছে। এই জারণ মানগুলো যথাক্রমে +2, +3, +4, +6, +7 নিম্নজারণ অবস্থার অক্সাইড ক্ষারধর্মী, উচ্চ জারণ অবস্থার অক্সাইড অম্লধর্মী।

আকরিকসমূহ :

টাইটানিয়াম-র আকরিক :
রুটাইল- TiO2
ইলমেনাইট- FeTiO3

ক্রোমিয়াম-র আকরিক :
ক্রোমাইট- FeO.Cr2O3
ক্রোম ওকোর- Cr2O3
ক্রোকইট- PbCrO4

ম্যাঙ্গানিজ-র আকরিক :
পাইরোলুসাইট- MnO2
ব্রিউনাইট- Mn2O3
ম্যাঙ্গানাইট- Mn2O3.H2O
হুসম্যানাইট- Mn3O4

আয়রন-র আকরিক :
ম্যাগনেটাইট- Fe3O4
রেড হিমাটাইট- Fe2O3
লিমোনাইট- 2Fe2O3.3H2O
সাইডেরাইট- FeCO3
আয়রন পাইরাইটস- FeS2

কপার-র আকরিক
কপার গ্লান্স- Cu2S
কপার পাইরাইটস- CuFeS2
কিউপ্রাইট- Cu2O
ম্যালাকাইট- CuCO3.Cu(OH)2

জিংক-র আকরিক :
জিংক ব্লেড- ZnS
কেলামিন- ZnCO3
জিংকাইট- ZnO

নিকেল-র আকরিক :
নিকেল গ্লান্স- NiAsS
নিকোলাইট- NiAs
পেন্টল্যানডাইট- (Ni.Cu.Fe)S
মিলিরাইট- NiS
স্মলটাইট- (Ni.Co.Fe)As2

ফোরোক্রোম :
Cr- 65%
Fe- 35%

ঢালাই লৌহ :
C- 2-4.5%
Si- 1-1.5%
Mn- 0.4%
P- 0.1%

কপারের ধাতু সংকর :

১. ব্রাস বা পিতল : Cu (60-80%) + Zn (40-20%)
ব্যবহার- কলস, পানির ট্যাপ, শীতল নল ও কার্টুজের খোলস তৈরিতে

২. জার্মান সিলভার : Cu (30-50%) + Zn (35-40%) + Ni (10-35%)
ব্যবহার- বাসনপত্র, অলংকার ও রেজিস্ট্যান্স বক্স তৈরিতে

৩. ব্রোঞ্জ বা কাঁসা : Cu (75-90%) + Sn(টিন) (10-25%)
ব্যবহার- থালা বাসন, ঘণ্টা বা বেল, ধাতব মূর্তি, ধোপার ইস্ত্রি তৈরিতে

৪. মোনেল মেটাল : Cu (30%) + Ni (67%) + I ও Mn (আয়রন ও ম্যাঙ্গানিজ) (3%)
ব্যবহার- রাসায়নিক ক্রিয়ারোধী, তাই ক্ষারশিল্পে ব্যবহৃত পাত্র, ইঞ্জিনের যন্ত্রাংশ ও বৈদ্যুতিক রোধক তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।

৫. সিলিকা ব্রোঞ্জ :
ব্যবহার- খুবই শক্ত, ক্ষয়রোধী ও উত্তম বিদ্যুৎ-পরিবাহী, তাই টেলিফোন, টেলিগ্রাফ প্রভৃতির ঝুলন্ত তার তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।

জিংকের ধাতু সংকর :

১. ব্রাস বা পিতল : Cu (60-80%) + Zn (40-20%)
ব্যবহার- কলস, পানির ট্যাপ, শীতল নল ও কার্টুজের খোলস তৈরিতে

২. জার্মান সিলভার : Cu (30-50%) + Zn (35-40%) + Ni (10-35%)
ব্যবহার- বাসনপত্র, অলংকার ও রেজিস্ট্যান্স বক্স তৈরিতে

৩. গান মেটাল : Cu (88%) + Zn (2%) + Sn (টিন) (10%)
ব্যবহার- সমরাস্ত্র যেমন- গান, কামান, যন্ত্রাংশ- পাইপ ফিটিং ভালব, পাম্পের পিস্টন, গিয়ার, বল-বিয়ারিং, প্রভৃতি তৈরিতে

4টি জটিল যৌগের নাম ও সংকেত :
জটিল যৌগের নাম
সংকেত
টেট্রা অ্যামিন কপার (ii) সালফেট
[Cu(NH3)4]SO4
পটাশিয়াম হেক্সা সায়ানো ফেরেট (iii)
K­3[Fe(CN)6]
পটাশিয়াম হেক্সা সায়ানো ফেরেট (ii)
K4[Fe(CN)6]
ডাই অ্যামিন সিলভার (i) ক্লোরাইড
[Ag(NH3)2]Cl

কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইস্পাতের সংকর :
ইস্পাতের সংকর
ধর্ম
ব্যবহার
টাংস্টেন ইস্পাত (18% W, 81% Fe, 1% C)
উচ্চ গলনাংক বিশিষ্ট ও শক্ত
উচ্চ ঘূর্ণন যন্ত্রপাতি তৈরিতে
ক্রোমিয়াম ইস্পাত (2% Cr, 97% Fe, 1% C)
শক্ত, ঘর্ষণরোধী
বল বিয়ারিং পস্তুতিতে
ম্যাঙ্গানিজ ইস্পাত (13% Mn, 86% Fe, 1% C)
ঘর্ষণরোধী ও অত্যন্ত শক্ত
উপগ্রহের যন্ত্রপাতি, রেললাইন প্রস্তুতিতে
মরিচাহীন ইস্পাত (18% Cr, 8% Ni, 73% Fe, 1% C)
মরিচারোধী
কাটলারি, গাড়ির যন্ত্রাংশ, সিংক, খাদ্যবস্তু, ওষুধাদি ও রাসায়নিক বস্তুর শিল্পক্ষেত্রে

Fe++ ও Fe+++ এর রাসায়নিক বিক্রিয়ায় পার্থক্য :

NH4OH
FeSO4+NH4OH⟶Fe(OH)2↓+(NH4)2SO4
                        সবুজ
FeCl3+NH4OH⟶Fe(OH)3↓+NH4CL
                     বাদামী
NH4CNS
কোন বিক্রিয়া ঘটে না
FeCl3+NH4CNS⟶(CNS)Cl2↓+NH4Cl
                      রক্ত লাল

অবস্থান্তর ধাতুর হাইড্রক্সাইড ও তাদের বর্ণ :
ক্যাটায়ন
অধঃক্ষিপ্ত ধাতব হাইড্রক্সাইড
অধঃক্ষেপের বর্ণ
Cr3+
Cr(OH)3
সবুজ
Mn2+
Mn(OH)2
ধূসর
Fe2+
Fe(OH)2
সবুজ
Fe3+
Fe(OH)3
বাদামী
Co2+
Co(OH)2
গোলাপী
Ni2+
Ni(OH)2
সবুজ
Cu2+
Cu(OH)2
হালকা নীল
Zn2+
Zn(OH)2
সাদা

ফেরিক ক্লোরাইড এর হলুদ দ্রবণ সোডিয়াম হাইড্রক্সাইড দ্রবণের সাথে বিক্রিয়া করে বাদামী বর্ণের ফেরিক হাইড্রক্সাইড অধঃক্ষিপ্ত হয়
FeCl3+3NaOH⟶Fe(OH)3+3NaCl

জিংক সালফেটের ক্ষারীয় দ্রবণে H2S চালনা করিলে ZnS এর সাদা অধঃক্ষেপ পড়ে
ZnSO4+NH4OH+H2S⟶ZnS+(NH4)2+SO4+2H2O

Al গুঁড়া দ্বারা ক্রোমিয়ামের অক্সাইডের বিজারণ :
Cr2O3+2Al  Al2O3+2Cr

দ্রবণে Cu++ আয়নের পরীক্ষা : Cu++ লবণের দ্রবণে পটাশিয়াম ফেরো সায়ানাইড দ্রবণ যোগ করলে লালচে বাদামী বর্ণের অধঃক্ষেপ পড়ে।
CuSO4+K4[Fe(CN)6]⟶Cu2[Fe(CN)6]+K2SO4+H2O

দ্রবণে Cu++ সনাক্তকরণ :
CuSO4+NH4OH⟶(NH4)2SO4+Cu(OH)2CuSO4
                                     হালকা নীল

(NH4)2SO4+Cu(OH)2CuSO4+NH4OH⟶[Cu(NH3)4]SO4+H2O
                                                গাঢ় নীল দ্রবণ


বাত্যাচুল্লীতে সংঘটিত বিক্রিয়া :
বাত্যাচুল্লীর যে অংশে বিক্রিয়া সংঘটিত হয়
তাপমাত্রা
বিক্রিয়া
চুল্লীর উপরের অংশ বা স্টক কলামে
400-900°C
Fe2O3+3CO⟶2Fe+3CO2
Fe3O4+4CO⟶3Fe+4CO2
চুল্লীর মধ্যভাগ বা বসের সামান্য উপরে
900-1000°C
CaCO3⟶CaO+CO2
CaO+SiO2⟶CaSiO3
চুল্লীর নিম্নাংশে বা বসের কাছে
1300-1400°C
Ca3(PO4)2⟶3CaO+P2O5
CaO+SiO2⟶CaSiO3
P2O5+5C⟶2P+5CO
SiO2+2C⟶Si+2CO
Mn2O3+3C⟶2Mn+3CO
MnO2+2C⟶Mn+2CO

প্রয়োজনীয় তথ্য :
১. পারমাণবিক সংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে বাড়তি ইলেক্ট্রন স্তরে প্রবেশ করে
২. সব মৌলের সর্ববহিঃস্থ স্তরের ইলেক্ট্রনের কাঠামো একই (4s2) ; যা এদের ধর্ম নিয়ন্ত্রণ করে। এ কারণে এদের রাসায়নিক ধর্ম মিল সম্পন্ন।
৩. সকলেই শক্ত ও উচ্চ ঘনত্বের ধাতু
৪. তাপ ও বিদ্যুৎ সুপরিবাহী ও উচ্চ মেকানিক্যাল বৈশিষ্ট্যের অধিকারী
৫. মৌলগুলোর ধাতব বন্ধন বেশ দৃঢ়
৬. এদের লবণসমূহ জটিল ও রঙিন
৭. বিভিন্ন বিক্রিয়ায় প্রভাবক হিসেবে ব্যবহৃত হয়
৮. পরিবর্তনশীল যোজ্যতা প্রদর্শন করে
৯. Sc ও Zn 3d সারির মৌল হলেও অবস্থান্তর নয়

কপার নিষ্কাশন :
কপার পিরাইট থেকে কপার নিষ্কাশন করা হয়। এতে 2-3% Cu থাকে। এক্ষেত্রে ৫ ধাপে কপার নিষ্কাশিত হয়।
আকরিককে গাঢ়ীকরণ ও তাপজারণের পর যে মিশ্রণ পাওয়া যায়, তাকে ক্যালসাইন বলে। এতে 80% কপার থাকে।
তাপজারিত আকরিককে বাত্যাচুল্লীতে বিগলিত করে বেশ কিছু FeS কে FeO এবং FeSiO3 ধাতুমল তৈরি করে অপসারণ করা হয়। ধাতুমল অপসারণ করার পর এ অবশেষকে কপার ম্যাট বলে। এতে 50% Cu থাকে।
সবশেষে উৎপন্ন Cu অপরিবর্তিত Cu2S দ্বারা স্ববিজারণ পদ্ধতিতে বিজারিত হয়ে ধাতব Cu–এ পরিণত হয়।
এভাবে প্রাপ্ত Cu কে ব্লিস্টার কপার বলে। এটি 97-98% প্রায় বিশুদ্ধ।

নিষ্কাশনের জটিলতা :
১. আকরিকে অপদ্রব্যের আধিক্যের কারণে মাত্র 2-3% Cu থাকে।
২. সালফারের প্রতি আয়রন অপেক্ষা কপারের আসক্তি বেশি। ফলে খুব অল্প Cu2S জারিত হয়ে Cu2O উৎপণ্ন করে। অধিকাংশ Cu­2S অপরিবর্তিত থাকে। যেটুকু Cu2O তৈরি হয় তা FeS এর সাথে বিক্রিয়া করে Cu2O তৈরি করে। তাই Fe দূরীভূত না করে Cu2O পাওয়া যায় না।
৩. তাপ জারণের সময় Cu2O সিলিকার সাথে যুক্ত হয়ে FeSiO3–এর মত কিউপ্রাস সিলিকেট তৈরি করে। ফলে Cu অপচয় রোধ হয়। এজন্য ধাতুমল গঠন কয়েকধাপে আংশিকভাবে করতে হয়। ফলে নিষ্কাশন প্রক্রিয়া দীর্ঘ হয়।

নিকেল নিস্কাশন :
পেন্টল্যান্ডইট [(Ni,Cu,Fe)S] হতে Ni নিষ্কাশিত হয়।
আকরিকের তাপজারণ, বিগলন ও বেসিমারীকরণের পর দূরীভূত করলে NiS, CuS ও FeS এর যে মিশ্রণ পাওয়া যায় তাকে নিকেল ম্যাট বলে। এতে 55% Ni, 25-30% Cu, 14-17% S এবং 0.1-0.5% Fe থাকে।
প্রাপ্ত এ নিকেল ম্যাট হতে মণ্ড বা অরফোর্ড প্রক্রিয়ায় Ni সংগ্রহ করা হয়।

প্রভাবক হিসেবে অবস্থান্তর ধাতু :
অধঃক্ষিপ্ত ধাতু
প্রভাবক
যে বিক্রিয়া প্রভাবিত হয়
বিক্রিয়ার শর্ত
Ti
TiCl3
ONC2H4⟶[H2C-CH2]n
তাপ
V/ Pt
V2O5/Pt
2SO2+O2⟶2SO3
450°C
Fe
Fe
N2+3H2⟶2NH3
550°C; 200 atm
Ni
Ni
⎤ ⎤       ⎤  ⎤
C=C+H2⟶CH-CH
⎤ ⎤       ⎤  ⎤
150°C
Pt
Pt
4NH3+5O2⟶4NO+6H2O
500°C
Cr
Cr2O3+ZnO
CO+2H2⟶CH3OH
400°C; 200atm
Mn
MnO2
2KClO3⟶2KCl+3O2
300°C
Fe
FeCl3
C6H6+Cl2⟶C6H5Cl+HCl
কক্ষ তাপমাত্রা
Mn
(CH3COO)2Mn
2CH3CHO+O2⟶2CH3COOH
কক্ষ তাপমাত্রা
Pd, cu
Pd2+, Cu2+
⎤R ⎤R
C=C+H2O  RCHO/R-CO-R
⎤  ⎤
দ্রবণে

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য :
সোয়েটজার বিকারক : সোয়েটজার বিকারক হল অ্যামোনিয়া যুক্ত কপার সালফেট [Cu(NH3)4­]SO4
স্পেল্টার Zn : 97-98% Zn
কণাকৃত Zn : গলিত Zn ধাতুকে ধারায় ঠাণ্ডা পানি যোগ করলে কণাকৃত জিংক পাওয়া যায়।
Zn ডাস্ট : (Zn+ZnO)
লিথোফেন : ZnS+BaSO4
ইঁদুর মারার বিষ : Zn3P2
Cold Short : লৌহের মধ্যে P থাকলে ইহা শীতল অবস্থায় ভঙ্গুর হয়। একে Cold Short বলে।
Res Short : লৌহের মধ্যে S এর পরিমাণ বেশি থাকলে ইহা গরম অবস্থায় ভঙ্গুর হয়। একে Red Short বলে।
স্পাইজেল : 79%-89% Fe, 5%-15% Mn এবং 6% C
টিংচার অব আয়রন : FeCl3 এর অ্যালকোহলীয় দ্রবণ।
S, d ও f মৌলসমূহ হল ধাতু এবং P ব্লক মৌলসমূহ প্রধানত অধাতু।
Cr(24) এবং Cu(29) মৌল দুটির ইলেক্ট্রন বিন্যাস ব্যতিক্রম।
Fe, Co, Ni হল ফেরোম্যাগনেটিক এবং Zn ডায়াম্যাগনেটিক।
S-ব্লক মৌলের তুলনায় d-ব্লক মৌলসমূহে ধাতব বন্ধন অধিক শক্তিশালী।
আয়রন সবচেয়ে বেশি ব্যবহায ধাতু।
ক্রল পদ্ধতিতে প্রাপ্ত উত্তপ্ত গলিত টাইটেনিয়ামকে শীতল করলে টাইটেনিয়াম স্পঞ্জ পাওয়া যায়।

নোট : ভর্তি প্রক্রিয়ায় প্রায় প্রতি বছরেই এই অধ্যায় থেকে প্রশ্ন থাকে । তাই এখানের প্রতিটি টপিকসই গুরুত্বপূর্ণ ।